ঢাকাসোমবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. কৃষি-কৃষক
  4. খেলার খবর
  5. চাকরী
  6. চিকিৎসা-করোনা
  7. জাতীয়
  8. দেশ-জুড়ে
  9. ধর্ম-কর্ম
  10. প্রযুক্তি খবর
  11. বিনোদন
  12. বিস্ময়কর
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

অমর একুশে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মা

মানবতা ডেস্ক নিউজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২ ৩:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আজ অমর একুশে। আজ আমাদের মাতৃভাষার দিন, শোকের দিন, মায়ের অশ্রুঝরার দিন। দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজের মায়ের ভাষার জন্য আজকের দিনটি স্মরণ করছে। এটি আমাদের জন্য অপার আনন্দের, বিজয়ের। তবে বাঙালি জাতিসত্তার জন্য শুধু আনন্দ নয়, শোক ও সংগ্রামেরও। কারণ আমাদের তরুণ সন্তানেরা এই দিনে যে অকাতর রক্ত ঝরিয়েছেন, সেটি ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার নগর-গ্রামে শিমুল-পালাশে।

এই রক্ত ঝরার বেদনাবহ এবং বীরত্বগাথা হচ্ছে আজকের অমর একুশে। তাই তো কবির কলম বলে- যে ভাষায় আমি মাকে সম্বোধনে অভ্যস্ত/সেই ভাষা ও স্বদেশের নামে/এখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে/আমি তাদের ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি/যারা আমার অসংখ্য ভাইবোনকে/নির্বিচারে হত্যা করেছে। (কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।)

একুশ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল, ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার। এই সময় বাংলার প্রকৃতিতে বিরাজ করে স্নিগ্ধ মমতার বসন্ত। শীত গরমের সন্ধি এই ঋতুতে শান্তির আবেশে ভরা থাকে বাঙালি মনন। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি বাঙালির শান্তিময় বসন্তেকে বেছে নিলো রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার দিন হিসেবে। বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ করে তারা কেড়ে নিলো- রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত-সহ আরও অনেককে। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে বাঙালি জীবনে। অন্য দিকে ৫ আগস্ট, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে বহুবার বহিরাগতরা শোষণ-শাসন করেছে।

এই জনপদের মানুষ নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সবুজ শস্যময় মাটি থাকার পরও শোষকদের কারণে বহু মানুষ দুর্ভিক্ষে অনাহারে, দুর্যোগে মারা গেছে। পরাধীনতা এই জাতিকে একেবারে নাগপাঁশে বেঁধে ফেলেছিলো। বিভিন্ন সময় বাঙালি অনেক ধরনের আন্দোলনক সংগ্রামও করেছে। তবে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন ছিলো খুবই সুগঠিত এবং চেতনাবহ। ভাষারা পরাধীনতা এই জাতি মেনে নিতে চায়নি। বিশেষ করে বঙ্গসমাজে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়ে বাঙালির আত্ম-অম্বেষায় যে ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারই পরিণতি। এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহিদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। আর ভাঙালি কবি লিখেন- স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো/চারকোটি পরিবার/খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য/পারেনি ভাঙতে/হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার/খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে/যারা বুনি ধান/গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই/সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।/ ইটের মিনার/ভেঙেছে ভাঙুক!/ ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী/চারকোটি পরিবার । – (স্মৃতিস্তম্ভ- আলাউদ্দিন আল আজাদ।

এই কবিতা শুধু কবির ভাষ্য নয়।এটি ছিলো গোটা জাতির চেতনার সমন্বিত প্রকাশ। হাজার বছরের নিপীড়িত জাতি তার পথ খুঁজেতে শুরু করলো- স্বাধীনতা শুধু কথা আর ভাষায় নয় পুরো জীবনের জন্য চাই। তাই স্বাধীন করতে হবে দেশ, মুক্তি ঘটাতে হবে সকলের। আর সেই মন্ত্রই বাঙালিকে রপ্ত করাচ্ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।যার পরিণতি আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

ভাষা শহিদদের এই অপরিসীম ত্যাগ আমদের একটি স্বাধীন মানচিত্র, পতাকা ও জাতিগত পরিচয় দিয়েছে। তাই বলতে গেলে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মা হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। এর ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন।

বক্তার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাভাষা ষষ্ঠতম। কিন্তু এর কার্যপরিধি এখনও সে অনুযায়ী প্রসারিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে জাতির অর্জনকে গৌরবান্বিত করেছেন। তারপরও বলতে চাই, নানাভাবে এখনও বাংলাভাষা অবহেলিত। দেশে সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হয়নি। আমাদের দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পড়ার জন্য আলাদা বই দিলেও, সার্বিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ তাদের মাতৃভাষা রক্ষা পাওয়ার কাজটিও আমাদের সকলের। পাকিস্তানিদের মতো আচরণ যেন আমরা না করি। সকল মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের কর্তৃব্য হওয়া উচিত।

দেশে সামাজিক যোযোগমাধ্যমে, নাটক-চলচ্চিত্রে ভাষাদূষণ রোধ করাও একটি বড় কাজ। অপ্রয়োজনীভাবে ইংরেজি কিংবা অন্য ভাষার ব্যবহার-বিকৃতি ঠেকানো না গেলে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা অবহেলিত থেকে যাবে। বিশ্বে জাতিগত সক্ষমতা বাড়াতে হলে, বাংলাভাষার সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। এই ভাষা আমাদের শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংষ্কৃতিক ধমনীরও রক্তপ্রবাহ। এর মধ্য দিয়ে উচ্চতর সাহিত্য রচনার করে আমাদের লেখকরা বিশ্ব দরবারে বরেণ্য হয়েছেন।

আমরা জানি, ল্যাতিন আমেরিকার অনেক জাতি উপনিবেশিকতার দাপটে নিজেদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তারা জানে না, তাদের পূর্বপুরুষরা কী ভাষয়া কথা বলতেন। আমরাও ঔপনিবেশিক জাঁতাকলে ছিলাম। বাঙালির বীরত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেটি রোধ করতে পেরেছি। অর্থাৎ আমাদের শিশুটি বাংলায় তার মাকে ডাকতে পারে। আমাদের বাবা বাংলায় সন্তানের প্রতি আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। পৃথিবীতে এক নয়, শত নয়, হাজার হাজার ভাষা হারিয়ে গেছে। আমরা সেই দুর্ভাগাদের দলে পড়িনি। এই দেশের বীর সন্তানেরা বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দিয়ে আমাদের মাতৃভাষা রক্ষা করে গেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব খুবই সহজ। সেটি হচ্ছে এই ভাষাটা ঠিঠাক মতো চর্চা করা।

লেখক: এম এ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক জনতার ইশতেহার

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।