সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
Homeদেশজুড়েনওগাঁয় পশু হাটের পাশাপাশি মাংস কাটার সরঞ্জামাদি কেনার উপচে পড়া ভিড়

নওগাঁয় পশু হাটের পাশাপাশি মাংস কাটার সরঞ্জামাদি কেনার উপচে পড়া ভিড়

হাতে সময় আর মাত্র ২ দিন। দেশে আগামি ২১ জুলাই (বুধবার) পালিত হতে যাচ্ছে ইসলাম ধর্মাম্বলীদের পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানি ঈদ। কোরবানির এ ঈদে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন ছুরি-চাকু, চাপাতি, বটি, দা সহ লোহার বিভিন্ন উপকরণ। তাই পশুর হাটগুলোর পাশাপাশি এখন কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জামাদি কিনতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে ‘দা-বটির’ দোকান গুলোতে। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নওগাঁ জেলা শহরের কামাররা। যেন দম ফেলারও সময় পাচ্ছেন না তারা, ব্যস্ত লোহার তৈরি ধারালো অস্ত্র মেরামতেও। জেলার অন্যান্য উপজেলা গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় একই দৃশ্য।

এছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী দোকানেও জমে উঠেছে বেচাকেনা।
নওগাঁ জেলা শহরের বাজারের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুড়ে দেখা গেছে, দোকানগুলোর সামনে সাজানো ছুরি-চাপাতি, দা-বটি। ক্রেতারা এসে পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পছন্দসই কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম। শুধু যে নতুন দা-বটি কেনার জন্যই লোকজন কামারের দোকানে আসেন তা নয়, জং ধরা পুরোনো দা-বটি শাণ দিতেও আসছে অনেকেই।
কামারের দোকানগুলোতে যেন টুং টাং শব্দে মুখর।

ঈদের বেচাকেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শহরের সুকুমার কর্মকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অর্ডার বেড়েছে। দিনরাত কাজ করছি। সারা বছরই দা-বটি সাপল ও কোদাল তৈরি করি। কিন্তু কোরবানির ঈদে ছুরি-চাকু, চাপাতি চাহিদা বেশি। নতুন বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো ছুরি-চাকু শাণ দিচ্ছি। স্প্রিং ও জাহাজের লোহা দিয়ে এসব জিনিসপত্র বানানো। তবে স্প্রিংয়ের দা ও চাপাতির দাম বেশি। উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু বেশি নিতে হচ্ছে। চায়না স্টিলের ছুরি-চাকুর কারণে আমাদের এখন ব্যবসা কমে গেছে। ছোট থেকে কামারের দোকানে থেকে এ কাজ শিখেছি। অন্য কাজ জানি না তাই সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে দোকান চালাচ্ছি। ভাড়া কর্মচারীর বেতন দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ব্যবসা ভালো হয়। এটি দিয়ে চলতে হয়।

তথ্য সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, এক কেজি ওজনের চাপাতি ৭০০ টাকা, স্প্রিংয়ের চাপাতি দু-তিনশ বেশি। ছুরি ৬০-২০০ টাকা, গরু জবাইয়ের বড় ছুরি ৫০০-১০০০ টাকা এবং বটি আকারভেদে ১০০-১০০০ টাকা। এছাড়া চাপাতি শাণ দিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ছুরি ও বটি শাণ ৫০-১০০ টাকা।

শুধু কামাররা নয় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছুরি-চাকু বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দোকানের সামনে ও ভ্যানে করে বিক্রি করছেন কোরবানির বিভিন্ন ধরনের উপকরণ। দা-বটি, ছুরি-চাকুর ভ্রাম্যমান বিক্রেতা আব্দুর রশিদ বলেন, আগে ফলের ব্যবসা করতাম। গত দুদিন ধরে খাটিয়া চাটাই ও ছুরি-চাকু বিক্রি করছি। বিক্রি হচ্ছে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বিক্রি করব। গত বছরও এ ব্যবসা করেছি ভালোই লাভ হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments