সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
Homeদেশজুড়েঢাকা বিভাগবিধিনিষেধ অমান্য, রাজধানীতে আটক-গ্রেফতার ৭৫৫

বিধিনিষেধ অমান্য, রাজধানীতে আটক-গ্রেফতার ৭৫৫

করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে আজ। আর কঠোর ওই লকডাউন বাস্তবায়নে রাজধানীতে টহল দিয়েছে সেনাবাহিনী। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব চেকপোস্টে চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীদের চেকপোস্ট পার হতে দেখাতে হয়েছে উপযুক্ত প্রমাণ। তবে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়েছেন নানা অজুহাতে, জরুরি সেবার নামে চলতে দেখা যায় বিভিন্ন যানবাহন। শুধু তাই নয়, মাস্ক ছাড়াই জরুরি সেবা কিংবা কাজের নামে বেরিয়ে জরিমানাও গুনতে হয়েছে কাউকে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে আটক ও গ্রেফতার হয়েছেন ৭৫৫ জন। তবে নিয়মভঙ্গকারীদের জরিমানা করার চেয়ে বুঝিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দেয়ার প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও অকারণে বের হওয়াদের ৩০ মিনিট আটকে রেখে পড়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, লকডাউনে সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ মানাতে রাজধানী জুড়ে দিনভর চেকপোস্ট, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও টহল পরিচালনা করা হয়। সারাদিনে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ৪৯৭ জন। এছাড়া বিধিনিষেধ অমান্যের দায়ে আরো ২৫৮ জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর পল্টন গুলিস্তান ও ইত্তেফাক এলাকা ঘুরে দেখা যায় এসব এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্টে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। জরুরি প্রয়োজনে যারা সড়কে বেরিয়েছেন তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের।

সড়কে যেসব গাড়ি চলাচল করছে সেগুলোর অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ও খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক, সরকারি কর্মকর্তাদের বহনকারী যানবাহন ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত মোটরসাইকেল। তবে এ সময়ে অলিগলি ও সড়কে কিছু রিকশার চলাচল দেখা যায়।

প্রধান সড়কগুলোতে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, পোশাক প্রস্তুতকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মী আনা-নেয়ার গাড়ি, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাড়ি ও সংবাদমাধ্যমের গাড়ি চলতে দেখা গেছে। তবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। যার ফলে তারা প্রায় প্রত্যেকটি গাড়ি চেক করার চেষ্টা করছেন। তারাও প্রত্যাশা করেন, করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ঢাকাবাসী তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

রাস্তায় কীভাবে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিলে দায়িত্বরত সার্জেন্ট আশরাফুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, আমরা প্রায় প্রত্যেকটি গাড়ি চেক করছি। এছাড়া জরুরি সেবার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্তে আইডি কার্ড দেখা হচ্ছে। সকাল থেকে আমার মাঠে নেমেছি।

এদিকে সায়দাবাদ সড়কে তেমন কোনো যানবাহন দেখা যায়নি। যে দু’একটির দেখা মিলেছে সেগুলো পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের গাড়ি। এছাড়া কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ চলাচল করতে দেখা গেছে। সেখানে দায়িত্বে থাকা সার্জেন্টরা বলছেন, এই পথ ধরে পণ্যবাহী গাড়িগুলো ঢাকার বাইরে যাচ্ছে বেশি। এছাড়া সাভার-আশুলিয়াগামী পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কিছু গাড়ি ঢাকা থেকে বের হচ্ছে।

এদিকে, গণপরিবহন না থাকায় ঢাকায় চলাচলের বড় ভরসা রিকশা। বেশি ভাড়া দিয়েই যানবাহনটিতে চড়তে হয়েছে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের।

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় কথা হয় রিকশার এক যাত্রীর সঙ্গে। ভাড়া নিয়ে আলাপ তুললে তিনি বলেন, যাইতে পারতেছি, এটাই বেশি। আমাদের কিছুই করার নাই। বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও যাইতে হবে।

লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২১টি শর্ত যুক্ত করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ বিধিনিষেধ ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য, ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৪৩ জন মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন। এ ছাড়া নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৩০১ জন। এতে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ২১ হাজার ৫৫৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৫৫ জনের পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এর আগে, বুধবার (৩০ জুন) দেশে আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া শনাক্ত হয় আরও ৮ হাজার ৮২২ জন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments