ঢাকাশনিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. কৃষি-কৃষক
  4. খেলার খবর
  5. চাকরী
  6. চিকিৎসা-করোনা
  7. জাতীয়
  8. দেশ-জুড়ে
  9. ধর্ম-কর্ম
  10. প্রযুক্তি খবর
  11. বিনোদন
  12. বিস্ময়কর
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

মানবতা ডেস্ক নিউজ
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাংবাদিক সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের পর এক দশক পার হলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। বাংলাদেশে এক ভয়ানক এবং ব্যাপক দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিরাজ করছে। সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনিকে তাদের বাড়িতে তাদের পাঁচ বছরের ছেলের সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ২০১২ সালে উচ্চ আদালত র‍্যাবকে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেন। ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে উচ্চ আদালত ৮৪তম বারের মতো র‍্যাবকে তাদের তদন্তের ফলাফল জমা দিতে বলেন। যা এখনো সম্পন্ন হয়নি।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের বিচার না হলে তা মিডিয়াকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর উদ্দেশ্যে দোষীদের উৎসাহ দেয় এবং আরো আঘাত, ভীতি ও হত্যাকে ত্বরান্বিত করে। আমরা বাংলাদেশে সেই গভীর উদ্বেগের নিদর্শন দেখতে পাই।

কমপক্ষে ১৫ জন সাংবাদিক গত দশ বছরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞগণ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে বিনা বিচারে আটক, আক্রমণ, অপহরণ, অনলাইন ও অফলাইনে ভীতিপ্রদর্শন এবং আইনি হয়রানির শিকার হওয়ার অসংখ্য প্রতিবেদন পেয়েছে।

ঘটনাগুলির তদন্ত বা বিচার হয়নি বললেই চলে। কিছু আক্রমণের ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত বলে ধারনা করা হয়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারের গোচরে আনা অভিযোগগুলিরও প্রায়ই কোনো জবাব মেলে না। ২০১২ সালে সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো চিঠির কোনো জবাব সরকারের কাছ থেকে কখনই পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযুক্ত শাহজাদপুরের তৎকালীন মেয়রের গুলিতে নিহত সাংবাদিক ও মানবাধিকারর্মী আব্দুল হাকিম শিমুলের মামলার বিচারকার্য বারংবার বিলম্বিত হওয়ায় বিশেষজ্ঞগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের আওতায় মামলাটির সকল আসামি বর্তমানে জামিনে আছেন।

অতিমারি মোকাবেলায় সরকারের সমালোচনা করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হয়ে নয় মাসের প্রাক-বিচারিক আটকাবস্থায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলখানায় মৃত্যুবরণকারী লেখক মুশতাক আহমেদের কথা উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নিতে তিন ঘণ্টা বিলম্ব হওয়ার পারিবারিক উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর ব্যাপারে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার পরিবর্তে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় গঠিত অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি পরিবারের দাবির বিষয়ে তদন্ত না করেই তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে সাব্যস্ত করে। উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞগণ সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব পায়নি।

আক্রমণ, ভীতি ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার সহজাত ঝুঁকি থেকে সাংবাদিকতা মুক্ত থাকা উচিৎ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দোষীদেরকে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারার সরকারি ব্যর্থতার কারণে সেটাই বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি এবং বাংলাদেশের অন্যান্য সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সম্পূর্ণ, দ্রুত, বিশদ, স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা ও তা সম্পন্ন করা এবং দোষীদেরকে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।