সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
Homeদেশজুড়েখুলনা বিভাগ‘হাফ কেজি চিড়ে মুঠ মুঠ খায়ে ৫ জনে রাত কাটাইছি

‘হাফ কেজি চিড়ে মুঠ মুঠ খায়ে ৫ জনে রাত কাটাইছি

‘ইনকাম তো বন্ধ, আমি কি করে খাবো বাজারে তো এট্টা লোকও নেই ছাতি সারবে কিডা।’

‘‘হাফ কেজি চিড়ে মুঠ মুঠ খায়ে ৫ জনে রাত কাটাইছি, এখন দুপার বেলা দুডে গরম ভাই খাইছি ডাটা দিয়ে, আমার পুঁজি আছে মাত্র বিশ’টে টাকা আর ৩ কেজি চাল, আজকের দিনডা যদি ছাতি সারতাম ৫শ’ডা টাকা ইনকাম হতো, সে পথ তো বন্ধ, আমি কি করে খাবো, বাজারে তো এট্টা লোকও নেই, ছাতি কিডা সারাবি!’’ কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিনে আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন ছাতা মেরামতের কারিগর ঝিনাইদহের শৈলকুপার বিজুলিয়া গ্রামের মনোয়ার মোল্লা।

পঞ্চাশোর্ধ্ব মনোয়ার মোল্লা গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে শৈলকুপা বাজারের খলিল মার্কেটের (ফাতেমা মার্কেট) সামনে ফুটপথে বসে ছাতা মেরামতের কাজ করেন। পাশাপাশি নিজের একটা ভ্যান আছে এসব দিয়েই চলে তার সংসার। মনোয়ার মোল্লার স্ত্রী, ২ ছেলে ও মেয়ে, রয়েছে পুত্রবধূ ও নাতি। সবই দেখভালের দায়িত্ব তার উপর। ছেলেরা দিনমজুরের কাজ করে যে রোজগার করেন, তা দিয়ে চলে না সাংসারিক ব্যয়।

সারাদেশে ১লা জুলাই থেকে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তারপ্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার বিজুলিয়া গ্রামের রাস্তায় বসে ৭ দিন কিভাবে কাটাবেন সেকথাই বলছিলেন মনোয়ার মোল্লা। তিনি বলেন, “আমার জমাজমি কিছুই নেই, টাকা যদি না থাকে ব্যাংক-ব্যালেন্স কোনতে আসবে, আয় করব খাবো, আয় করলে আনন্দ থাকবে, আয় করলাম না আনন্দও নেই, আনন্দ পথে পথে”!

নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমার বুক ফাটে কান্দা আসতেছে, বয়স হয়েছে, শরীরে প্রচন্ড হাফ, এখন মাঠের পাট কাটতে পারব না, পিয়েজের মৌসুম হলে তো বসে বসে পিয়েজ লাগাতাম, এখন টুকটাক বসে ছাতি সারি, এই যে লকডাউন দিয়ে থোইছে, এখন আমি কি করে চালাবো, তালি আমাগোরে বিষ কিনে দেন, আমরা বিষ খায়ে মরে যাই, একবারে শোধ হয়ে যায়!”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments