বিজয় দিবসে করণীয়ঃ ইসলামী দৃষ্টিকোণ
ইসলামের দৃষ্টিতে বিজয় দিবসে করণীয়।

বিজয় দিবসে করণীয়ঃ ইসলামী দৃষ্টিকোণ
ইসলামের দৃষ্টিতে বিজয় দিবসে করণীয়।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ


মুফতী মাহমুদ হাসান।
আজ ১৬ই ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরব ও অহংকারের দিন। লাখ লাখ বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তস্রোত, স্বামী-সন্তানহারা নারীর অশ্রুধারা, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী আর বীরাঙ্গনাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয়েছিল মহান এই বিজয়। মহান আল্লাহ তায়ালা ৪৯ বছর আগে এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালি জাতিকে দিয়েছিল আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।

দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা হচ্ছে ইসলামসম্মত বিশেষ সহজাত গুণ। সুতরাং দেশের বিজয় দিবস আমাদের গৌরব, অহংকার।

দেশপ্রেমের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আল্লাহর পথে এক দিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস পর্যন্ত সিয়াম পালন ও এক মাস ধরে রাতে সালাত আদায়ের চেয়ে বেশি কল্যাণকর। যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল, মৃত্যুর পরও তা তার জন্য অব্যাহত থাকবে, তার রিজিক অব্যাহত থাকবে, কবর-হাশরের ফিতনা থেকে সে নিরাপদ থাকবে। ’ (মুসলিম, ১৯১৩)

বিজয় দিবস কীভাবে পালন করা কর্তব্য?

রাষ্ট্রের বিজয় উপলক্ষে আমাদের কর্তব্য, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ ও ইস্তিগফার পাঠ করা। কারণ এ বিজয় নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য বলে নয় বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্যেই সম্ভব হয়েছে।

বিজয় সম্পর্কে কুরআনের দু’টি সুরা আমাদের সামনে রয়েছে। একটি সুরাহ ফাতহ (বিজয়) এবং অপরটি সুরাহ নাসর (সাহায্য)। সুরা নাসর-এ মহান আল্লাহ বলেন,إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّـهِ وَالْفَتْحُ – وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّـهِ أَفْوَاجًا – فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
“যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং দলে দলে লোকদেরকে ইসলামে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পড়ুন এবং আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করুন।

বিজয় দিবসে আমরা নিচের কাজগুলো করতে পারি :

১. এই দিনে বিজয়ের জন্য আল্লাহর মহ্ত্ত্ব, পবিত্রতা ও বড়ত্ব বর্ণনা করা।

২. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

৩. মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে আত্মনিবেদন ও ইস্তিগফার করা।

৪.কুরআন তিলাওয়াত করে

৫. এবং দান-খাইরাত করে তার ছাওয়াব দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, সেই শহীদ ভাই-বোনগণের রূহে রেসানী করতে পারি। তাদের জন্য দু‘আ করতে পারি।

বিজয় দিবস পালনের নামে অনুষ্ঠিত বাদ্য ও নাচগানের অনুষ্ঠান, যুবক-যুবতীদের নিয়ে উত্তাল কনসার্ট, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং সবধরণের অপসংস্কৃতি চর্চা থেকে ও শিরকী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎ ও আদর্শ নাগরিক, দেশ প্রেমিক এবং দেশের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কবুল করুক।

মুফতী মাহমুদ হাসান।
সিনিয়র শিক্ষক: দারুল হক্ব ইসলামিয়া মাদ্রাসা মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Youtube Channel Subscribe

মোট ভিজিটর

0064312
Visit Today : 589
Visit Yesterday : 663
This Month : 11095
Total Visit : 64312
Who's Online : 3
Your IP Address: 3.239.242.55

Video Gallery