আজ:

২১ অক্টোবর, ২০২১, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
More
    ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

      ভূমি আফিসে সেবা না পেয়ে পারিশ্রমিক চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন

      প্রকাশিতঃ

      মেহেরপুর প্রতিনিধি

      মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কুষক তাজুল ইসলাম ইউয়িন ভুমি অফিসে গিয়েছিলেন জমির খাজনা পরিশোধ করতে। কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও তার জমির খাজনা নেয়নি স্থানীয় তহশিলদার।

      - Advertisement -

      সংসারের কাজকর্ম ফেলে তিন দিন যেতে হয়েছিল তহশিল অফিসে। সর্বশেষ তহশিলদারের হাত ব্যাথার অজুহাতেও খাজনা না নিয়ে ফেরৎ আসতে হয় তাকে। অবশেষে বুধবার বিকেলে ওই ভুক্তভোগী দিনমজুর তিন দিনের পারিশ্রমিক চেয়ে এবং জমির খাজনা মৌকুফের আবেদন করেন জেলা প্রশাসক বরারবর। সরকারি অফিস থেকে সেবা না পেয়ে পারিশ্রমিক চেয়ে আবেদনকে একটি নতুনত্ব বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসক।

      জানাগেছে, কৃষক তাজুল ইসলাম তার মেয়ে খাদিজা খাতুনের জমির খাজনা পরিশোধ করতে সাহারবাটি ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসে যান। প্রথম দিন তাজুল ইসলামের সাথে কোনো কথায় বলতে চাননি ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা(তহশিলদার) নুরুল হুদা। দ্বিতীয় দিনেও খাজনা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। সেদিনও তাকে ফেরত আসতে হয়। তৃতীয় বার বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাজুল ইসলাম সংসারের কাজকর্ম ফেলে আবারও যান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা নুরুল হুদার হাত ব্যাথার ওজুহাতে এবারও ফেরত আসতে হয় তাকে।

      অবশেষে তাজুল ইসলাম বুধবার বিকেলে তিন দিনের হয়রানীর মুল্য ও পারিশ্রমিক চেয়ে জেলা প্রশাসক বরারবর একটি লিখিত আবেদন করেন। ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম বলেন, আমি একজন দিনমজুর কৃষক। আমি তিনদিন তহশিল অফিসে গিয়েছি। আমার সাথে তহশিলদার কথা বলেনি। আমি গরিব মানুষ আমাকে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। মেয়ের জমির খাজনা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু জমির সমস্ত কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও খাজনা নেয়নি। উপরন্ত তহশিলদার আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। পরে আমি গাংনী উপজেলা ভ‚মি অফিসে গিয়েছলাম। সেখানে সুরাহা না পেয়ে অবশেষে জেলা প্রশাসক বরাবর তিনদিনের পারিশ্রমিক চেয়ে আবেদন করেছি। বিনা কারনে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারিরা সেবা গ্রহিতাদের অবহেলা করলে পারিশ্রমিক দাবী করতেই পারে। এটা আমার স্বাধীন বাংলার নাগরিক হিসেবে গণতান্ত্রিক অধিকার।

      গাংনী উপজেলা ভ‚মি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, আমার কাছে একজন এসেছিল। আমি তার দরখাস্তে খাজনা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। খাজনা পরিশোধ করতে আসা বা সরকারি অফিসে সেবা গ্রহিতারা হয়রানী হলে সরকারি রাজস্ব আদায় বিঘ্নিত হবে বলেও জানান তিনি। তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

      মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান বলেন,সরকারি আফিসে গিয়ে সেবা না পেয়ে ভুক্তভোগী পারিশ্রমিক চেয়ে আবেদন করেছেন । এমন আবেদন দেশে একটি নতুনত্ব। তার দাবীর যৌক্তিকতা রয়েছে। তিনি পরপর তিনদিন ঘুরেছেন, তিনি তার মজুরী বা পারিশ্রমিক দাবী করতেই পারেন। তবে কি কারনে খাজনা দিতে গিয়ে তিনদিন ঘুরতে হয়েছে তা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

      এই বিভাগের আরো

      LEAVE A REPLY

      Please enter your comment!
      Please enter your name here

      এই সপ্তাহের শীর্ষ দশ

      Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com