আজ:

২১ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
More
    ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

      পাইকগাছায় ডাক্তার সংকটে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চলছে ফার্মাস্টি দিয়ে

      প্রকাশিতঃ

      খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে উপসহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ফার্মাস্টি দিয়ে। দীর্ঘ দিন ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কোন চিকিৎসা কর্মকর্তা না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেখানকার তৃণমূলের মানুষ।

      - Advertisement -

      তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে-কলমে খুকু মনি নামে একজন ডাক্তার রয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে গদাইপুরে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী উপস্বাস্থ্য পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকা ও কাটিপাড়া বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন ডাক্তার পপি রানী।

      কপিলমুনির আগড়ঘাটা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন ডাক্তার অরূপ রতন, কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন করছেন খুলনা কোভিড হাসপাতালে। কপিলমুনিতে রয়েছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। গড়–ইখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বে রয়েছেন ডাক্তার মাহামুদা হক জুঁই। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।আর গড়াইখালীতে রয়েছেন উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা শিপন হালদার। চাঁদখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ইবনে মান্নান’র দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সেখানে রয়েছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাকিল মেহেদি রেজা।

      উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন মেডিকেল কর্মকর্তা ,একজন উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা ,একজন ফার্মাসিস্ট ও নতুন পদায়ন একজন নার্স এবং একজন পিয়ন (এমএলএসএস) থাকার কথা থাকলেও এগুলো চলছে উপসহকারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে।

      এর মধ্যে গদাইপুর, আগড়ঘাটা ও গড়ুইখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চলছে একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা দিয়ে। এর মধ্যে বাঁকার ফার্মাসিস্ট থাকেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যিনি ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তিনিই আবার ওষুধ দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল কর্মকর্তা সহ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও সেখানে একজন করে কর্মচারী রয়েছেন।

      ডাক্তারসহ জনবল সংকটে এসব এলাকার বাসিন্দারা চরমভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সরেজমিনে জানানো হয়েছে। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, অবকাঠামোর দিক দিয়ে পাকা ও আধুনিকায়ন হলেও গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ নোংরা ও স্যাঁত-সেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে।

      এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সুজন কুমার সরকার বলেন, জনবলসংকটের পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্লোর ডুবে যায়।

      পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নিতীশ চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১১ জন। সেখানে ১২ টি ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে চ৪জন ডাক্তার কোভিট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ জন্য রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে তাদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। সে কারণে সাবসেন্টার বা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ডাক্তার দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

      এসময় তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসে মন্ত্রনালয়ে জনবলসংকটের কথা লিখে পাঠালেও কোন কাজ হচ্ছেনা।

      এই বিভাগের আরো

      LEAVE A REPLY

      Please enter your comment!
      Please enter your name here

      এই সপ্তাহের শীর্ষ দশ

      Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com