আজ:

২৬ অক্টোবর, ২০২১, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
More
    ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

      আশুলিয়ায় লাখো মানুষের চলাচলের ভোগান্তি দূর করলেন আলম ভূইয়া

      প্রকাশিতঃ

      সাভার প্রতিনিধি

      আশুলিয়া থানা ধামসোনা ইউনিয়নের একটি রাস্তার বেহাল দশা, খানাখন্দ ও ড্রেনের অভাবে বর্ষা এলেই কিংবা অল্প বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়কটি। আশপাশের সাত-আটটি গার্মেন্টের শ্রমিকসহ কয়েক লাখ এলাকাবাসীর চলাচলের মাধ্যম সড়কটিতে তখন ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। হাটু পানি জমে থাকায় চলাচল দূরহ হয়ে পড়ে। বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও প্রতিকার পাননি স্থানীয়রা।

      - Advertisement -

      মাস দুই আগেও সাভারের আশুলিয়ায় ইউনিক বাস স্ট্যান্ড থেকে ভূইয়া পাড়া এতিমখানা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে হাটু পানি জমে ছিলো। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।

      অবশেষ আলম ভূইয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজেই সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ব্যক্তিগত আট লাখ টাকা খরচ করে গত এক মাস ধরে সড়কটি সংস্কার করেন। ইট ও বালি ফেলে উঁচু করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য সংস্কার করেছেন ড্রেনও। আলম ভূইয়ার এমন মহতি কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সড়কটিতে চলাচলকারী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা ও স্থানীয়রা।

      স্থানীয় এক বাসিন্দা, দ্বীন মোহাম্মদ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘অনেক দিনের জলাবদ্ধতার কারণে আমরা এলাকাবাসী অনেক ভোগান্তিতে ছিলাম। আশপাশের অনেক বাড়িঘরে ভাড়াটিয়ারা আসতো না, খালি থাকতো। এখানকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাওয়া হইছিলো। কিন্তু তারা কোন আশ্বাস দিতে পারে নাই। তারপরে আমাদের এলাকার আলম ভূইয়া রাস্তাটা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সকলকে ডাইকা নিয়া বইসা নিজের টাকায় রাস্তাটা সংস্কার করেন। এখন রাস্তাটা দিয়া সবাই ভালো ভাবে চলাচল করতাছে। বাড়িঘরে ভাড়াটিয়ারা আসতেছে।’স্থানীয় এক দোকানী বলেন, প্রায় ৫-৭ বছর ধইরা রাস্তাটায় ভাঙ্গা, গাতা (গর্ত) ছিলো। অল্প বৃষ্টি হইলেই পানি জইমা জলাবদ্ধতা হইতো। জলাবদ্ধতার কারণে এই রাস্তাটা দিয়া চলাচল করা যাইতো না। আমাদের এখানে অনেক গুলা গার্মেন্টস। লাখ লাখ শ্রমিকরাও ভালো ভাবে চলাফেরা করতে পারতো না।

      রিকশাচালক মোবারক হোসেন বলেন, অনেক দিন যাবৎ রাস্তাটা ভাঙ্গা আছিলো। যাত্রী নিয়াতো দূরের কথা খালি রিকশা নিয়া যাওয়া যাইতো না। একেতো জাগায় জাগায় গর্ত। তার উপর হাটু সমান পানিতে তলায় থাকতো। গর্তে পইরা রিকশা ভাইঙ্গা যাইতো। এখন রাস্তাটায় ইটের টুকরা ফেইলা উচা করণে রিকশা নিয়া যাওন যায়। আগের চাইতে অনেক আরামে রিকশা চালাইতে।

      সড়কটি সংস্কারকারী আলম ভূইয়া বলেন, ‘এমন অবস্থা হইছিলো এই রাস্তা দিয়া ট্রাক যাওয়ার সাহস পাইতো না। এই পরিমাণ গর্ত আর পানি হইছিলো। পরে আমি জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান, মেম্বার, ভাইস চেয়ারম্যান ওনাদের সাথে যোগাযোগ করছি। ওনারা আমারে কোন আশানুরুপ আশ্বাস দেয় নাই। অনেক দৌড়ঝাপ কইরাও কোন ফল পাই নাই। পরে আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়া রাস্তাটা ঠিক করার সিদ্ধান্ত নিছি। এতে আমার প্রায় ৬ লক্ষ ১০ হাজার ট্যাকা খরচ হইছে। যদিও এখনো শ্যাষ হয় নাই। ৮ লক্ষ ট্যাকার মতো খরচ হইবো।’

      ‘তবে এখন মোটামুটি মানুষ ও গাড়ি চলার মতো উপযোগী হইছে। ইপিজেড ও আর ৭-৮টা গার্মেন্টেসের সমস্ত লোক এই রাস্তাটা দিয়া চলাফেরা করে। এতদিন আমরা খুব দুর্ভোগে ছিলাম। এখন কোন রকম বাঁচতে পারতাছি। এখন সরকারি ভাবে যদি আরও একটু ভালো করে কিছু করে দেয় তাহলে আমরা খুব উপকৃত হইতাম। বিশেষ করে আমাদের এলাকাবাসীর জন্য একটা ড্রেনের খুবই প্রয়োজন। আমি ড্রেনটাও কোনরকমে সংস্কার করতেছি।’

      আজকের সর্বশেষ

      সব খবর

      এই বিভাগের আরো

      T20 ক্রিকেট লাইভ

      এই সপ্তাহের শীর্ষ দশ

      Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com